ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য না দিতে বলেছে-বিশ্লেষক রাধা দত্তের দাবি

ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য না দিতে বলেছে — বিশ্লেষক রাধা দত্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক │ স্বদেশ২৪.কম │ ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৫

ভারত সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী বা রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে বলে দাবি করেছেন ভারতের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক রাধা দত্ত। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাধা দত্ত বলেন, “ভারত এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুনভাবে দেখতে চায়। শেখ হাসিনা যদি ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশ বা বর্তমান সরকারবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্য দেন, তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হবে- এ বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে তাঁকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য “রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে”- তাই ভারত সরকার চায় তিনি যেন এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন। একাত্তর টিভি, আরটিভি অনলাইন ও খোলা কাগজসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম রাধা দত্তের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে — ভারত শেখ হাসিনাকে “বাংলাদেশবিরোধী” বা “উস্কানিমূলক” মন্তব্য না করার জন্য সতর্ক করেছে।

দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে” পরামর্শ দিয়েছে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বদেশ২৪.কম-কে বলেন,“আমরা এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাইনি। তবে দুই দেশের সম্পর্ক রক্ষায় পারস্পরিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা সবসময়ই জরুরি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলেন, “দিল্লি এখন পরিস্থিতি খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা চায় না শেখ হাসিনার বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি হোক।”

এ পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা লিখিত নির্দেশ পাওয়া যায়নি। ফলে, এটি সরাসরি সরকারি সিদ্ধান্ত নয়, বরং কূটনৈতিক পর্যায়ের “অঘোষিত বার্তা” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাধা দত্তের এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কেউ এটিকে ভারতীয় কূটনৈতিক সতর্কতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার কৌশল।তবে, দুই দেশের সম্পর্ক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় — সেটিই এখন কূটনীতিকদের প্রধান উদ্বেগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *