আন্তর্জাতিক ডেস্কগাজা:
দীর্ঘ এক বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, ধ্বংস আর মৃত্যুর পর অবশেষে হামাস ও ইসরায়েল আজ ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অচলাবস্থা নিরসনে জাতিসংঘ ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নেমে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত শান্তির সুবাতাস।
চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে গাজার রাস্তাঘাট, উদ্বাস্তু শিবির ও ভগ্ন শহরগুলোতে হাজারো মানুষ নেমে আসে আনন্দ-উল্লাসে। দীর্ঘদিন পর কেউ কেউ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নামাজে সেজদা দেয়, কেউ আবার আলিঙ্গন করে কেঁদে ওঠে। শিশুদের হাতে পতাকা, নারীদের চোখে অশ্রু—সব মিলিয়ে গাজা উপত্যকা যেন পরিণত হয়েছে আনন্দ-উৎসবে।
চুক্তির মূল ধারা
চুক্তি অনুযায়ী—
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
ইসরায়েল তার স্থল সেনা প্রত্যাহার করবে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে।
মানবিক সহায়তার করিডোর সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে।
হামাস বন্দি ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তি দেবে ধাপে ধাপে।
পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করবে জাতিসংঘ।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেন,
> “এটি শুধু একটি চুক্তি নয়, এটি গাজার মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার বিজয়। আমরা শান্তি চাই, মর্যাদা চাই, স্বাধীনতা চাই।”
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন,
> “আমরা যুদ্ধ চাইনি, নিরাপত্তা চেয়েছি। এখন আশা করি এই চুক্তি উভয় জনগণের জন্য স্থায়ী শান্তির পথ খুলে দেবে।”
গাজায় আনন্দের বন্যা
শুক্রবার ভোর থেকে গাজার আকাশে দেখা গেছে রঙিন আতশবাজি। যুদ্ধবিধ্বস্ত রাস্তায় শিশুরা পতাকা উড়িয়ে গান গাইছে—“আমরা বাঁচব, আমরা ফিরব।” স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, “দীর্ঘ ৩৬৫ দিন পর আজ আমাদের বাচ্চারা ভয় ছাড়া হাসছে।”অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপের পাশে ছোট ছোট দোকান খুলতে শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা; কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে পুনর্গঠনের প্রস্তুতি।
বিশ্বের প্রতিক্রিয়াজাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন,
> “আজ মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে। এই চুক্তি মানবতার জয়।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক, কাতার ও মিশরসহ বেশ কয়েকটি দেশ শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং পুনর্গঠন কাজে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে সতর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি টেকসই হবে কিনা তা নির্ভর করবে পারস্পরিক আস্থা ও আন্তর্জাতিক তদারকির ওপর। গাজার মানুষ যদিও আজ উল্লাসে মেতে আছে, তবু তাদের মনে এখনও প্রশ্ন—এই শান্তি কতদিনের?
রক্ত ও আগুনে পোড়া গাজায় আজ ফুটেছে নতুন ভোরের আলো। যুদ্ধের ছাই থেকে শান্তির ফুল ফোটাতে পারলে এই চুক্তিই হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ইতিহাসের সূচনা।