প্রতিবেদন:
২০২৭ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে। এবারের আসরে মোট ১৪টি দল অংশ নেবে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ৮ দল (আয়োজক তিন দেশ বাদে) সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাবে, বাকিদের যেতে হবে কঠিন বাছাইপর্বে।
সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী (অক্টোবর ২০২৫), আফগানিস্তানের সাথে প্রথম দুই ওয়ানডে হারের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে ১০ম স্থানে রয়েছে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে। অর্থাৎ সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার দৌড়ে এখন বাংলাদেশের অবস্থান সীমারেখায়। সাম্প্রতিক আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে পয়েন্ট হারানোয় দলটি নিচে নেমে এসেছে।
আইসিসির র্যাংকিং হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত পাওয়া পয়েন্টই নির্ধারণ করবে কে সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে। ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন প্রতিটি ওয়ানডে সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগামী বছর ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজগুলো র্যংকিং নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাংলাদেশ পরবর্তী সিরিজগুলোতে ধারাবাহিক জয় পায়, বিশেষ করে ঘরের মাঠে, তাহলে শীর্ষ আটে থাকা সম্ভব। তবে পারফরম্যান্সে অনিয়মিততা, পেস আক্রমণের দুর্বলতা ও ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বাছাইপর্বের পথই হবে একমাত্র ভরসা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে ওয়ানডে দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি, বিদেশি ফিটনেস কোচ নিয়োগ ও ব্যাটিং-বোলিং ইউনিটে বৈচিত্র্য আনাই এখন মূল লক্ষ্য।
বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে বাংলাদেশের। তবে সেটি ধরে রাখতে হলে প্রতিটি সিরিজে জয়ই হতে হবে মূল চাবিকাঠি। র্যাংকিংয়ের সমীকরণ এখন বাংলাদেশের হাতে—হাল ছাড়লে ২০২৭ বিশ্বকাপের দরজা কঠিন হয়ে যাবে।