বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা সংবলিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ফলে আপাতত এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে রুলসহ এই স্থগিতাদেশ দেন।
পরিপত্রের পটভূমি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছিল, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হবে এবং ১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত হবে।
তবে এই নির্দেশনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েকজন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গত রোববার রিট আবেদন করেন।
রিটের মূল অভিযোগ
রিট আবেদনে বলা হয়, গত আগস্টে দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ড ‘গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪’-এর দুটি বিধি—১৩(১) ও ৬৪(৩)—সংশোধন করে। নতুন বিধি অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নবম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অথবা অবসরপ্রাপ্ত পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন।
এ বিধানকে বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে এমরান হোসেনসহ চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি রিটটি দাখিল করেন।
আদালতে শুনানি
রিটকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।
আইনজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, “নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন প্রবিধান সাধারণ নাগরিকদের কমিটি নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত করছে, যা সংবিধানের ২৭ ও ২৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।”
হাইকোর্টের আদেশ
হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, সংশোধিত প্রবিধানের বিধিগুলো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের কার্যক্রম পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন আদালত।
এই আদেশের ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠন ও অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্তির কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে।