আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরে দুই দেশের সীমান্তবর্তী কুররম এলাকায় আকস্মিক গোলাগুলির সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, আফগান সীমান্তের দিক থেকে পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিগুলোর ওপর প্রথমে মর্টার ও ভারী অস্ত্রে হামলা চালানো হয়। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা জবাব দেয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলতে থাকে, যা আশপাশের সীমান্তগ্রামগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের সীমান্ত চৌকিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়। আমরা আত্মরক্ষার্থে তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছি। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান সেনা প্রথমে সীমান্ত পার হয়ে গুলি ও মর্টার হামলা চালায়, যার জবাবে আফগান সীমান্তরক্ষীরা পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।
সংঘর্ষের সময় সীমান্তবর্তী কুররম জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় স্কুল ও বাজারও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
আফগান ও পাকিস্তানি গণমাধ্যম বলছে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। ডুরান্ড লাইনের নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত পারাপার ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এ উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত কয়েক মাসে এ ধরনের অন্তত পাঁচটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যাতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল এই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক কূটনীতিকরা বলছেন, এই সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে তা পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে এবং সীমান্তজুড়ে টহল জোরদার করা হয়েছে। আফগান পক্ষও সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক ও আলোচনার চেষ্টা চলছে, তবে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে এই ধরনের সংঘর্ষ শুধু দুই দেশের মধ্যকার আঞ্চলিক সম্পর্ককেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ডুরান্ড লাইন নিয়ে বিরোধের ইতিহাস ১৮৯৩ সাল থেকে। এই সীমান্ত বরাবর সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এ সংঘর্ষ সেই পুরনো ক্ষতের ওপর নতুন করে আগুন জ্বেলে দিয়েছে।