মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা সেনানিবাসের সাবজেলে

১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনাল

আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত গুম, অপহরণ, খুন, নির্যাতন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে ট্রাইব্যুনালের আদেশে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “বুধবার সকাল থেকেই সাবজেলে আমাদের লোকজন দায়িত্ব পালন করছে। অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা

সকাল সোয়া ৭টার দিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। এরপর সাড়ে ৭টায় তাদের হাজতখানায় নেওয়া হয়। অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে সকাল ১০টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সেনানিবাসে নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

অভিযুক্তদের মধ্যে র‍্যাব ও সেনা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা

অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেনসহ সেনা বাহিনীর একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

তিন মামলায় মোট অভিযুক্ত ৩২ জন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন হত্যা ও দুটি গুমের ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলায় মোট ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এছাড়া পলাতক রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং র‍্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালক।

গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। আগামী বুধবার এ সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়াকে বিশেষজ্ঞরা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। আইনি মহল বলছে, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের মামলা দেশের বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *