ঢাকা: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তরের পথে। এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ইতোমধ্যেই আবেদন জমা দিয়েছে এবং ধাপে ধাপে কনভেনশনাল ব্যাংকিং থেকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে এনসিসি ব্যাংক রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ইসলামী উইন্ডো ও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শাখা চালু করেছে। গ্রাহকের চাহিদা ও বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পুরো ব্যাংকটিকে শরীয়াহভিত্তিক মডেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রচলিত ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর করতে হলে বোর্ড ও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন, শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি গঠন, ঋণ ও আমানত পণ্য পুনর্গঠন এবং হিসাবরক্ষণ ও প্রযুক্তিগত কাঠামো পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করেই এনসিসি ব্যাংক এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, ইসলামী ব্যাংকিংয়ে স্বচ্ছতা ও গ্রাহকের আস্থা বেশি থাকায় তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
অন্যদিকে শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রূপান্তরের সময়সীমায় শেয়ারের দামে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনা মেনে চলতে পারলে এনসিসি ব্যাংকের এ উদ্যোগ আর্থিক খাতের জন্য ইতিবাচক হবে।
বর্তমানে দেশে এক ডজনেরও বেশি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি কনভেনশনাল ব্যাংক ইসলামী উইন্ডোর মাধ্যমে সেবা প্রদান করছে। এনসিসি ব্যাংক যুক্ত হলে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের সংখ্যা আরও বাড়বে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামী ব্যাংকিং খাতের প্রসার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নতুন আস্থা তৈরি করবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দক্ষ পরিচালনা ও যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।