গাজার আকাশে আজ শান্তির পায়রা উড়ে বেড়ায় না, উড়ে বেড়ায় শুধু বারুদের ধোঁয়া আর বিস্ফোরণের আগুন। প্রতিদিন অসহায় মানুষের রক্ত নদীর মতো বইছে। শিশুরা কোলে নিতে পারছে না মায়ের বুকের দুধ, কারণ সেই মা হয়তো ধ্বংসস্তূপের নিচে নিথর হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালগুলো আরোগ্যের নয়, মৃত্যুর মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সাদা চাদরে ঢাকা হাজারো লাশ আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করছে—কোথায় মানবতা?
গাজা যুদ্ধ আজ শুধু একটি রাজনৈতিক সংঘাত নয়, এটি হলো সভ্যতার নগ্ন পরাজয়। যেসব দেশ নিজেদের মানবাধিকারের অগ্রদূত বলে দাবি করে, তারাই আজ দ্বিচারিতার মুখোশ পরে আছে। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো তাদের ভণ্ডামির মুখোশে সাময়িক নিন্দা জানালেও অস্ত্র ব্যবসার স্বার্থে যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত। জাতিসংঘ নামক বৈশ্বিক সংগঠনটি আজ দাঁড়িয়ে আছে অসহায় দর্শকের ভূমিকায়। প্রশ্ন জাগে—তাহলে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর দরকার কী, যদি তারা রক্তপাত থামাতে না পারে?
গাজার শিশুদের কান্না কেবল গাজার নয়, এটি সমগ্র মানবতার কান্না। তাদের প্রতিটি অশ্রুবিন্দু যেন আঘাত হানে আমাদের হৃদয়ে, আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তোলে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা শুধু দেখছি, শুধু শুনছি, অথচ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি না। এই নীরবতা একদিন ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার অস্বীকার করে কোনোদিন শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার, নিরাপদে বসবাসের অধিকার, শিশুদের হাসি–খুশি শৈশবের অধিকার—এসবই আজ পদদলিত হচ্ছে যুদ্ধবাজদের নিষ্ঠুরতার কাছে। যদি এই অবিচার চলতেই থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের আগুন একদিন পুরো বিশ্বকে গ্রাস করবে।
বাংলাদেশসহ শান্তিপ্রিয় প্রতিটি রাষ্ট্রকে আজই জোরালো কণ্ঠে বলতে হবে—যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। শুধু বিবৃতিতে নয়, কার্যকর পদক্ষেপে দেখাতে হবে আমরা মানবতার পাশে আছি। দরকার আন্তর্জাতিক চাপ, মানবিক সহায়তা, আর সাহসী কূটনৈতিক ভূমিকা। যদি বিশ্ব একত্রিত হয়ে দাঁড়ায়, তবে হয়তো থামানো যাবে এই অমানবিক হত্যাযজ্ঞ।
গাজা যুদ্ধ আমাদের জন্য একটি আয়না—যেখানে আমরা নিজেদের প্রকৃত চেহারা দেখতে পাই। আমরা কি মানবতার পক্ষে দাঁড়াব, নাকি শক্তির কাছে মাথা নত করব? ইতিহাসে আমরা কোথায় দাঁড়াব, সেই সিদ্ধান্ত আজই নিতে হবে।
গাজা যেন আরেকটি “হিরোশিমা” না হয়, যেন মানুষের কান্না আবারও সভ্যতার কানে পৌঁছায়—এই প্রত্যাশা নিয়ে বলছি, গাজার প্রতিটি শহীদ শিশু মানবতার নীরব সাক্ষী, আর তাদের রক্তই একদিন বিশ্ব বিবেককে জাগিয়ে তুলবে।