ঐতিহ্যের স্মারক সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকার ২৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

উপমহাদেশের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা তার গৌরবময় পথচলার ২৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করেছে। গত ১ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার, বকশীবাজার ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও উলামায়ে কেরামের এক মিলনমেলা বসে। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আনন্দ শোভাযাত্রা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে বকশীবাজার ক্যাম্পাস থেকে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ছাত্র ও অতিথিরা অংশ নেন। “১৭৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা” লেখা বিশাল ব্যানারে ২৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর লোগো শোভা পায়। অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে এবং মাদ্রাসার পতাকা ও ব্যানার হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাসের সাথে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা মাদ্রাসার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। হলভর্তি দর্শক-শ্রোতা ও অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল ছিল মুখরিত। অতিথিদের বক্তব্য পর্দায় প্রদর্শন করা হয় এবং প্রধান মঞ্চ ফুলেল সজ্জায় সজ্জিত ছিল।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জনাব মো: মাহফুজ আলম এবং শিক্ষা সচিব (কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ) জনাব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক।

আলোচনা সভায় বক্তারা সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকার দীর্ঘ ২৪৬ বছরের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মুসলিম সমাজে এর অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য:

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার মাদ্রাসার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “ঢাকা আলিয়া কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি মুসলিম সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় জাগরণের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। যুগ যুগ ধরে এই প্রতিষ্ঠান দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য:

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন তাঁর বক্তব্যে মাদ্রাসাটিকে একটি ‘ঐতিহ্যের স্মারক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “এই মাদ্রাসা থেকে বহু যোগ্য আলেম, ফাজিল ও নীতিবান মানুষ তৈরি হয়েছেন, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রকে আলোকিত করেছেন। এর অবদান চিরস্মরণীয়।” তিনি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও তদানীন্তন আলেমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

সভাপতির বক্তব্য:

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফলভাবে আয়োজনে সকলের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ঐতিহাসিক পটভূমি

আলোচনা সভায় জানানো হয়, ১৭৮০ সালে বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক কলকাতায় কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা নামে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এটি ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়ে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা নামে কার্যক্রম শুরু করে। উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও অধিকার আদায়ে এই প্রতিষ্ঠান ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।দিনব্যাপী এই আয়োজনে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।প্রতিবেদন প্রসঙ্গে আপনার কোনো কিছু জানার থাকলে বা কোনো অংশে পরিবর্তন চাইলে জানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *