টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য মাউশির জরুরী নির্দেশনা।

মাউশির জরুরী নির্দেশনা

টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একটি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো আগামী ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মাসব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫ সফলভাবে সম্পন্ন করা।

নির্দেশনার বিস্তারিত:

  • ক্যাম্পেইনের সময়কাল: আগামী ১২ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
  • লক্ষ্যমাত্রা: এই ক্যাম্পেইনে প্রায় ৫ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে।
  • টিকা প্রদানের স্থান:
    • প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে তাদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে।
    • যারা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে না, সেই ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা নিকটস্থ ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য মাউশির নির্দেশনা

এই ক্যাম্পেইন সফল করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সহযোগিতা:

  • উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারগণ প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেবেন যেন তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই টিকাদান কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।

২. কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান:

  • সহকারী উপজেলা বা সহকারী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা তাদের নিজ নিজ ক্লাস্টারের স্কুলগুলোতে এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে কিনা, তা নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করবেন।
  • জেলা, উপজেলা, ও থানা পর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করতে হবে।

৩. শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ:

  • প্রধান শিক্ষকদের নিশ্চিত করতে হবে যেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
  • শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, টিকা গ্রহণ নিশ্চিতকরণ, এবং অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব পালন করবেন।
  • প্রয়োজনে টিকাদান কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে রোভার স্কাউট বা শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা যেতে পারে।

৪. নিবন্ধন ও তথ্য যাচাই:

  • শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য সহায়তা দিতে হবে। যেসব শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ নেই, তারাও বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে পারবে।
  • শিক্ষকরা নিশ্চিত করবেন যেন রেজিস্ট্রেশন ফরমের তথ্যগুলো সঠিক থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • এই টিকাদান ক্যাম্পেইনটি ১৮ কার্যদিবস পর্যন্ত চলবে। প্রথম ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং পরবর্তী ৮ দিন ইপিআই সেন্টারে টিকা দেওয়া হবে।
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে, এই টিকা নেওয়ার পর সামান্য কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যেমন – টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথা, ফোলা, হালকা জ্বর বা মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে, যা স্বাভাবিক এবং এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়।

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে টাইফয়েডের সংক্রমণ এবং এর ফলে সৃষ্ট অসুস্থতা ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *