ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ │ নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেন উৎসবের আবহ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সিদ্ধান্তমূলক তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৯৬ রান তোলে মেহেদী হাসান মিরাজের দল, পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩০ ওভার না যেতেই গুটিয়ে দেয় ১১৭ রানে।
🔹 ওপেনিং জুটিতে সাফল্যের গল্প
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান মিলে প্রথম উইকেটে গড়েন ১৭৬ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ। সৌম্য ৮৬ বলে ৯১ রান করে আউট হন, আর সাইফ হাসান খেলেন দায়িত্বশীল ৮০ রানের ইনিংস।
এই জুটি বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। পরের ব্যাটাররা বড় ইনিংস না খেললেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে দলকে এনে দেয় প্রায় তিনশ রানের লড়াকু সংগ্রহ — ২৯৬/৮।
🔹 স্পিনে বিধ্বস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধসে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ। মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে রিষাদ হোসেন, মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয় সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম দিকেই টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন রিষাদ।
শেষ পর্যন্ত ক্যারিবীয়রা টিকতে পারেনি ৩০.১ ওভারের বেশি— সবক’টি উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ মাত্র ১১৭। বাংলাদেশের হয়ে রিষাদ নেন ৩ উইকেট, মিরাজ ও তাইজুল পান ২টি করে।

🔹 অধিনায়কের কৌশল ও মাঠে আগ্রাসন
বাংলাদেশ টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা প্রমাণিত হয়েছে পুরোপুরি সঠিক। মিরাজের নেতৃত্বে দলটি আজ একদম পরিকল্পনা মাফিক খেলেছে— প্রথমে বড় রান, পরে ধারাবাহিক বোলিং প্রেসার।
ফিল্ডে টাইগারদের আগ্রাসন ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি ক্যাচ, প্রতিটি রান আউটের প্রচেষ্টায় দেখা গেছে আত্মবিশ্বাস ও ঐক্য।
🔹 দর্শকের উল্লাস ও সিরিজের জয়
ঘরের মাঠে এমন জয় ছিল দর্শকদের জন্য আনন্দের পরশ। গ্যালারি জুড়ে “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ” ধ্বনি যেন জানান দিচ্ছিল— টাইগাররা আবার ফিরে এসেছে পুরনো ছন্দে।
এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জিতে নেয় শিরোপা।
🔹 পারফরম্যান্সের হাইলাইটস
- 🏏 সৌম্য সরকার: ৯১ (৮৬ বল, ৮ চার, ৩ ছক্কা)
- 🏏 সাইফ হাসান: ৮০ (৭২ বল, ৬ চার)
- 🎯 রিষাদ হোসেন: ৩ উইকেট
- 🎯 মিরাজ ও তাইজুল: ২টি করে উইকেট
- 🏆 ম্যাচ সেরা: সৌম্য সরকার
- 🏆 সিরিজ সেরা: রিষাদ হোসেন
এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধুই এক ম্যাচের জয় নয়, বরং এক আত্মবিশ্বাসের পুনর্জাগরণ। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে গড়া এই দলটি প্রমাণ করেছে— পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও দলীয় ঐক্য থাকলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানো সম্ভব।
ঘরের মাঠে এই দাপুটে জয় আবারও প্রমাণ করল— টাইগাররা যখন ছন্দে থাকে, তখন তাদের থামানো সত্যিই কঠিন।