বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস আজ — কন্যা নয় বোঝা, বরং জান্নাতের চাবিকাঠি

নিজস্ব প্রতিবেদন

আজ ১১ ই অক্টোবর, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে “বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস”। জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা, ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখনো কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য, শিশুবিবাহ, শিক্ষা বঞ্চনা ও সামাজিক নিপীড়ন নানা আকারে বিদ্যমান। অথচ প্রায় চৌদ্দশত বছর আগেই ইসলাম কন্যাশিশুর প্রতি সম্মান, দায়িত্ব ও স্নেহের যে উদাহরণ দিয়েছে—তা আজও মানবতার জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা।

ইসলামে কন্যাশিশুর মর্যাদা

ইসলাম আগমনের আগে আরব সমাজে কন্যাশিশুকে অবমাননার দৃষ্টিতে দেখা হতো। কন্যা জন্ম নিলে পরিবারে হতাশা নেমে আসত, এমনকি কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার নৃশংস প্রথাও প্রচলিত ছিল।

কুরআন এই ঘৃণ্য আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেছে—

> “তারা যখন কন্যাসন্তান লাভের সংবাদ পায়, তখন তাদের মুখ কালো হয়ে যায় এবং তারা দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়।”(সূরা নাহল: ৫৮)

এই জাহেলিয়াতি সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনে ইসলাম। মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন—

> “যাকে আল্লাহ কন্যাসন্তান দান করেন, সে তো একটি মহান নিয়ামত লাভ করে।”(সূরা শূরা: ৪৯-৫০)

রাসুলুল্লাহ ﷺ কন্যাশিশুকে সম্মানিত করেছেন স্নেহ ও আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে। তিনি বলেন—

> “যার তিনটি কন্যা আছে এবং সে তাদেরকে সুন্দরভাবে লালন-পালন করে, তাদের প্রতি দয়া করে, তাদের বিয়ে দেয়, তার জন্য জান্নাত অবধারিত।”(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

আরেক হাদীসে এসেছে—

> “যার দুটি কন্যা আছে এবং সে তাদের যত্নসহকারে বড় করে তোলে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনে আমার সঙ্গে রাখবেন।”(তিরমিজি)

কন্যাশিশুর প্রতি ইসলামী দায়িত্ববোধ

ইসলাম শুধু মর্যাদা নয়, কন্যাশিশুর প্রতি দায়িত্বের এক সুস্পষ্ট রূপরেখাও দিয়েছে।

1. জন্মের সময় আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:

ছেলে-মেয়ে উভয়ই আল্লাহর নিয়ামত। তাই কন্যা জন্মালে নিরাশ না হয়ে শুকরিয়া আদায় করতে বলা হয়েছে।

2. সমান শিক্ষা ও সুযোগ প্রদান:

ইসলামী শিক্ষায় স্পষ্ট—“জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ)

এই নির্দেশে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।

3. নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা:

ইসলাম নারীর নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কন্যাশিশুর শৈশব থেকেই তার সম্মান, পোশাক, চলাফেরা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত।

4. বিবাহের আগে-পরে অধিকার নিশ্চিতকরণ:

কন্যার বিয়েতে তার মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক (সহিহ বুখারি)। এছাড়া পিতা-মাতার দায়িত্ব তাকে সঠিক স্থানে বিবাহ দেওয়া, এবং যৌতুকের নামে তার উপর বোঝা চাপানো নয়।

আজকের প্রেক্ষাপটে ইসলামের শিক্ষা

বর্তমান সমাজে কন্যাশিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি, ও শিক্ষা বঞ্চনার মতো সমস্যা প্রকট। অথচ ইসলাম স্পষ্টভাবে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক মানবাধিকারের চেয়েও সুদূরপ্রসারী।

বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি একটি মানবিক অঙ্গীকার। ইসলামের আলোকে যদি প্রতিটি পরিবার কন্যাশিশুকে আল্লাহর রহমত হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের শিক্ষা ও নিরাপত্তাকে দায়িত্ব হিসেবে নেয়, তাহলে সমাজ থেকে বৈষম্য, সহিংসতা ও অন্যায় দূর হয়ে যাবে।

কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, সে ভবিষ্যতের আলো।ইসলাম শেখায়—যে কন্যাকে ভালোবাসে, সে জান্নাতের যোগ্য।

One thought on “বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস আজ — কন্যা নয় বোঝা, বরং জান্নাতের চাবিকাঠি

  1. যে ব্যক্তির সব গুলো কন্যা সন্তান সে কি করবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *