আগামীকাল বেসরকারি শিক্ষকদের গণজমায়েত, দাবির পক্ষে ঢাকায় ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন লাখো শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীকাল ১২ই অক্টোবর (রবিবার) রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এক অভূতপূর্ব গণজমায়েত।

এই সমাবেশের মূল স্লোগান— “লক্ষ্য শিক্ষক: অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হই”।

বেসরকারি শিক্ষকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা, তো ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকরা ঢাকামুখী্য হচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এবার তারা বাস্তব ফলাফলের জন্য রাজপথে নামছেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়— দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান।

প্রধান দাবিগুলো:

১️⃣ বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি শিক্ষক সমপর্যায়ে বৈষম্য দূরীকরণ

২️⃣ গৃহভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা পুনর্নির্ধারণ ও দ্রুত কার্যকর করা

৩️⃣ এমপিওভুক্ত নয় এমন শিক্ষক-কর্মচারীদের অবিলম্বে এমপিওভুক্তকরণ

৪️⃣ ডবল শিফট বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিও অনিশ্চয়তা নিরসন

৫️⃣ অবসর সুবিধা, উৎসবভাতা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের একীভূত নীতিমালা প্রণয়ন

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় জমায়েত শুরু হবে। দুপুর নাগাদ সেখানে মূল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষক নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

আয়োজক সূত্র জানায়, ঢাকায় এই সমাবেশে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষক অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে “#লক্ষ্যশিক্ষক” হ্যাশট্যাগে ব্যাপক প্রচারণা চলছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আগাম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের এই গণজমায়েতকে অনেকেই বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য, এমপিও জটিলতা এবং জীবনযাত্রার চাপ শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি করেছে। আগামীকালের সমাবেশ সেই অসন্তোষের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

১২ই অক্টোবরের “লক্ষ্য শিক্ষক” গণজমায়েত কেবল একটি দাবির মিছিল নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অবহেলিত স্তরের ন্যায্যতার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে।

সব চোখ এখন থাকবে ঢাকার দিকে— দেখার বিষয়, এই আন্দোলন কি সরকারের নীতিনির্ধারকদের টেবিলে নতুন বাস্তবতার বার্তা পৌঁছে দিতে পারে কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *