ওয়াশিংটন থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে এক নাটকীয় দৃশ্যের সাক্ষী হলো হোয়াইট হাউস সদৃশ এক বৈঠক। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কাতারের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোন সংযোগে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের প্রভাবশালী রাজনীতিক, সেনা কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প টেলিফোন সেট হাতে নিয়ে কথোপকথন নিশ্চিত করছেন, অন্যদিকে নেতানিয়াহু মনোযোগী ভঙ্গিতে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। চারপাশে উপস্থিত কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন নিঃশব্দে। এই বৈঠকের প্রতিটি মুহূর্ত যেন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির নতুন ইঙ্গিত বহন করছে।গত কয়েক বছরে কাতার ও ইসরায়েলের সম্পর্ক তীব্র সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে গাজায় হামলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে কাতারের কড়া সমালোচনা বারবার ইসরায়েলকে চাপে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফোনালাপ মূলত কৌশলগত পদক্ষেপ। কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত ছাড়া ইসরায়েল আঞ্চলিক রাজনীতিতে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কারণ, কাতার শুধু গালফ অঞ্চলের অর্থনৈতিক শক্তি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নানা শান্তি আলোচনারও অন্যতম প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী।ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি ঘটনাটিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। তাঁর উদ্যোগে পূর্বে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে আরব বিশ্বের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল। এবার কাতারের সঙ্গেও বোঝাপড়ার চেষ্টা তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার আরেকটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই আলোচনার সফলতা কেবল ইসরায়েল ও কাতারের সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ খুলে দেবে না, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কাতার ইসরায়েলের এই ক্ষমা প্রার্থনাকে কতটা গুরুত্ব দেবে এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে বাস্তবে কতটা অগ্রগতি হবে—তা এখনো অনিশ্চিত।
হোয়াইট হাউসে উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠক: কাতারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা নেতানিয়াহুর, ফোন ধরে আছেন ট্রাম্প