মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর মো. আজাদ খানের পদত্যাগ

রিপোর্ট:ঢাকা ॥

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর মো. আজাদ খান করেছেন। সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন পদত্যাগ পত্রে তিনি তার শারীরিক অসুস্থতার কথা লিখেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে থাকার জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মো. আজাদ খান বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছি। ডাক্তার বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। এই অবস্থায় এত বড় দায়িত্ব পালন সম্ভব নয় বলেই আমি পদত্যাগ করেছি। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরই নতুন মহাপরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যেখানে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতই নতুন ডিজি নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হবে।

অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দায়িত্ব পালনকালে মো. আজাদ খান শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন। বিশেষ করে শিক্ষক বদলি ব্যবস্থার অনলাইন প্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠান মনিটরিং জোরদার এবং জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর পদত্যাগে সহকর্মী ও শিক্ষক সমাজে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত অফিস করতে পারছিলেন না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দেয়। তাঁর পদত্যাগের পর মন্ত্রণালয় চায়, নতুন মহাপরিচালক যেন দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করে চলমান কার্যক্রমগুলোকে গতিশীল করতে পারেন।

শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, মো. আজাদ খান ছিলেন একজন বিনয়ী ও সহযোগিতাপ্রবণ কর্মকর্তা। শিক্ষা খাতের নানা সংস্কারমূলক কাজে তিনি আন্তরিকভাবে ভূমিকা রাখলেও অসুস্থতার কারণে শেষদিকে তিনি আর তেমন সক্রিয় থাকতে পারেননি।

বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, এমপিও নীতিমালা সংশোধন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন ডিজির ওপর বড় দায়িত্ব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *