নভেম্বরের পর উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করবেন: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী নভেম্বরের পর আর উপদেষ্টা পরিষদের কোনো বৈঠক হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের দিকে যখন জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে, তখন সরকার নির্বাচন কমিশনের অধীনে থেকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর তথ্য ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন,
“নভেম্বরের পর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক আর হবে না। তখন সরকার নির্বাচন কমিশনের অধীনে তার ভূমিকা পালন করবে। অর্থাৎ সরকার তখন প্রশাসনিক সহায়ক ভূমিকায় থাকবে এবং নির্বাচন কমিশনই হবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।”

তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরদিন সোমবার (২৭ অক্টোবর) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়—
“উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে। পরিষদের নির্ধারিত বৈঠকও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে না।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশনের মতামত ও নির্দেশনাই হবে চূড়ান্ত।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের সব কার্যক্রম সংবিধানের আলোকে পরিচালিত হবে এবং প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মন্ত্রণালয়গুলো তাদের নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাবে। দেশের জনগণ যাতে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দুটি বিষয়কে স্পষ্ট করেছে—
এক, নভেম্বরের পর সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমিত ভূমিকা রাখবে;
দুই, নির্বাচনকালীন সময়েও প্রশাসনিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন জানায়, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: তথ্য মন্ত্রণালয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতি, ২৬-২৭ অক্টোবর ২০২৫।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *