স্টাফ রিপোর্টার:
বেতন বৈষম্য নিরসন, চিকিৎসা ভাতা প্রদান, উৎসব ভাতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও মাঠে নেমেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। দাবি আদায়ে আজ বিকেল চারটার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না এলে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা শত শত শিক্ষক-কর্মচারী। দিনভর সেখানে চলতে থাকে অবস্থান কর্মসূচি, বক্তব্য ও স্লোগান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশের পরিধি আরও বাড়ে।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই শিক্ষা খাতে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য দিন দিন প্রকট হচ্ছে। তারা বলেন, সরকারি শিক্ষকদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও শিক্ষা কার্যক্রমে সমানভাবে অবদান রাখছেন। অথচ ন্যায্য বেতন ও ভাতা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, “আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি, অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো বাস্তব সমাধান আসেনি। যদি বিকেল চারটার মধ্যে স্পষ্ট ঘোষণা না আসে, তবে আমরা সচিবালয়ের দিকে পদযাত্রা করব।”
আরেক নেতা বলেন, “এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটি বঞ্চিত শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের লড়াই। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত মেনে নিয়ে এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করুন।”
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- সরকারি শিক্ষকদের সমপর্যায়ের বেতন-ভাতা প্রদান।
- চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ ও বাড়িভাড়া ভাতা ২০% বৃদ্ধি।
- অবসরকালীন ভাতা ও কল্যাণ তহবিল জোরদারকরণ।
- বার্ষিক উৎসব ভাতা সরকারি কর্মচারীদের সমপর্যায়ে উন্নীতকরণ।
- জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তকরণ।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেস ক্লাব ও সচিবালয় এলাকাজুড়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন পুলিশ সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনাও চলছে। তবে আন্দোলনকারীরা আজকের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন ফেডারেশন নেতারা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচিতে যাবেন। তাদের এই ঘোষণা ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।