প্লাস সাইজের মডেলদের এমন হট ফটোসুট আগে দেখেন নি! (ভিডিওসহ)

Loading...

প্লাস সাইজের মডেলদের এমন হট ফটোসুট আগে দেখেন নি! প্লাস সাইজের মডেলদের এমন হট ফটোসুট আগে দেখেন নি! ভিডিও নিচে দেখুন

সারভাইক্যাল ক্যানসার: কারণ ও প্রতিকার

বর্তমান প্রজন্মের কাছে ক্যানসার অভিশাপ৷ পুরুষ নারী নির্বিশেষে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সকলেই৷ মহিলাদের ক্ষেত্রে মারণরোগ হয়ে দেখা দিচ্ছে সারভাইক্যাল ক্যানসারের সংক্রমণ৷ তবে, অনেকেই এখনও এই রোগ সম্পর্কে জানেন না৷ কী এই সারভাইক্যাল ক্যানসার? কেন এই রোগেই সংক্রমণ হয়? এর প্রতিকার কী? এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধিকে বিস্তারিত তথ্য জানালেন ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল, রুবি জেনারেল হাসপাতাল ও আনন্দলোক হাসপাতালের বিশিষ্ট ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডা. সোমনাথ সরকার৷

সারভাইক্যাল ক্যানসার কী?
জরায়ুর মুখ যেখান থেকে শিশু জন্ম নেয়, তাকে ইংরাজীতে সারভিকস্ বলে৷ এই অংশে ক্যানসার হলে তাকে সারভাইক্যাল ক্যানসার বলে৷

এই প্রকার ক্যানসারের কারণ কী?
জরায়ুর এই অংশে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের ফলে ক্যানসার হতে পারে৷ এছাড়াও সহবাসের সময় যদি কোনভাবে এই অংশে আঘাত লেগে ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং এবং এই ক্ষত দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকে তবেও ,সারভাইক্যাল কানসার হতে পারে৷ এই রোগের অপর এক কারণ জীবাণু, যার নাম হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস৷ চিকিৎসকেরা সংক্ষেপে একে এইচপিভি বলে থাকেন৷ এটি জরায়ুতে বাসা বাঁধলে সারভাইক্যাল ক্যানসার হতে পারে৷

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস কীভাবে আক্রমণ করে?
এই জীবাণু আক্রমণের প্রধান কারণ হেলথ হাইজিনের অভাব৷ এছাড়াও এইচপিভি জাবীণু যদি সংখ্যায় বেড়ে যায়, তবেও এই রোগের সম্ভাবনা থেকে যায়৷ কেউ যদি একাধিক পুরুষের সঙ্গে সহবাস করেন তবেও, এই রোগ হতে পারে৷ অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় সেক্স পার্টনার্সদের মধ্যে কেউ যদি এইচপিভি ক্যারিয়ার হন তবে তার থেকে অপরজনের এই সংক্রমন হতে পারে৷ যদিও, এইচপিভি সংক্রমণ মানেই যে সারভাইক্যাল ক্যানসার, তা কিন্তু একেবারেই নয়৷

মা যদি সারভাইক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তবে কী গর্ভজাত শিশুরও এই সংক্রমণ হতে পারে?
একেবারেই নয়৷ মায়ের দেহের কোন জীবাণু কোনভাবেই সন্তানের উপর প্রভাব ফেলে না৷ ঈশ্বর শিশুর জন্মরহস্য এমনভাবেই সৃষ্টি করেছেন যে গর্ভজাত সন্তানের কোনরকম সংক্রমণ মায়ের শরীরে থাকাকালীন হয় না৷

সারভাইক্যাল ক্যানসারের উপসর্গগুলি কী কী?
কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় এই রোগের মূল উপসর্গ৷ অতিরিক্ত সাদা স্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, সহবাসের পর রক্তপাত, মনোপজের পরেও রক্তপাত, সারভিকসের গোড়ায় ব্যাথা ইত্যাদি৷ এছাড়াও অনেক সময় দেখা গিয়েছে রোগীর কিডনি অকোজে হয়ে যাওয়ার পিছনেও সারভাইক্যাল ক্যানসারের ভূমিকা রয়েছে৷ তাই এই কারণগুলি যদি দেখা যায়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত৷ কারণ, সমস্যা ফেলে রাখলে ভবিষ্যতে এই রোগ সারানো অনেকবেশি অসুবিধাজনক হতে পারে৷

সারভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধের কোন উপায় আছে কী?
সারভাইক্যাল ক্যানসারের প্রতিষেধক বাজারে রয়েছে যার নাম এইচপিভি ভ্যাকসিন৷ যদিও, এটি অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ৷ আবার দেখা গিয়েছে অনেকক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন ঠিক ভাবে কাজ করে না৷ তাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হল স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা৷

এই রোগের চিকিৎসা কী?
প্রাথমিক অবস্থায় অনেকসময় সার্জারি করা হয় বা রেডিওথেরাপি করা হয়ে থাকে৷ পরবর্তী পর্যায়ে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে৷ কিন্তু, একেবারেই যদি দেরি হয়ে যায়, তখন আর সেইভাবে কিছু করার থাকে না, তখন রোগীর সাইন অ্যান্ড সিম্পটম অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়৷তবে, বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞান এতটাই উন্নত হয়েছে যে, সারভাইক্যাল ক্যানসার যদি প্রথমধাপেই ধরা পরে তবে রেডিওথেরাপির মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ ভাবে সারিয়ে তোলা সম্ভব৷ এমনকী সারভাইক্যাল ক্যানসারের তৃতীয়ধাপে এসেও প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুস্থ ভাবে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব৷